Family LawNo Comments

লেখকঃ রাওমান স্মিতা, আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ।
 
ঘটনাঃ জান্নাতুল নাইম এভ্রিল মিস বাংলাদেশ প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করেন এবং খেতাবও পেয়ে জান। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় সে বিয়ে করেছিল এবং তালাকও দিয়েছে। সে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় তথ্য গোপন করেছে এবং তালাকপ্রাপ্তা হিসেবে তার অংশগ্রহণ বিতর্কিত হয়ে পড়ে।
 
জান্নাতুল নাইম এভ্রিল যা বলেছেঃ ১৬ বছর বয়েসে তার মতের বিরুদ্ধে তার বাবা মা পারিপার্শ্বিক চাপে পড়ে তাকে বিয়ে দেয়। যা সে মেনে নিতে পারেনি। বিয়ের পরের দিনই সে বাবার বাড়ি ফেরত আসে এবং দুই মাস পর সে তালাক দেয়।
 
আইন কি বলে?ঃ
***বৈধ বিয়ের শর্তঃ
১। সম্মতিঃ বিয়েতে বর ও কনের পূর্ণ সম্মতি থাকতে হবে।
২। বয়সঃ যে কোন চুক্তি করতেই পক্ষদ্বয়কে সাবালক ও সুস্থ মস্তিষ্ক হতে হবে। বিয়ের চুক্তিও এর ব্যাতিক্রম নয় এবং বিয়ের জন্য ছেলের ২১ বছর ও মেয়ের ১৮ বছর হতে হবে।
৩। দেনমোহরঃ উল্লেখ করতে হবে।
৪। স্বাক্ষীঃ দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের স্বাক্ষীর উপস্থিতি থাকতে হবে।
৫। রেজিস্ট্রেশনঃ বিয়ের চুক্তি রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
 
*** বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ১৯২৯ এর ধারা ২ (ক) অনুযায়ী ২১ বছরের নীচে ছেলে এবং ১৬ বছরের নীচে মেয়ে শিশু বলে বিবেচিত হবে। এবং ধারা ২ (খ) অনুযায়ী যে বিয়েতে যে কোন এক পক্ষ শিশু তাই বাল্য বিয়ে।
 
***বিয়ের যোগ্যতাঃ
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের বিধান অনুসারে একজন নাবালকের বিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি সুস্থ মস্তিষঙ্কিও প্রাপ্ত বয়স্ক কোন মুসল্মানের বিয়ে তার বিনা সম্মতিতে হলে তা পণ্ড/বাতিল বলে গন্য হবে। এবং কোন বিয়ে বলপূর্বক বা প্রতারণামূলকভাবে সম্মতি গ্রহন করা হলে স্বীকার করে না নেয়া পর্যন্ত বিয়েটি অবৈধ থাকবে। যে বিয়েতে কোন সম্মতি গ্রহন করা হয়নি সেই বিয়েতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করলেও বিয়েটি বৈধ হবেনা।
 
***মামলাঃ আলাম (মোঃ) এবং অন্যান্য বনাম সরকার ৫৪ ডিএলআর ২৯৮(Alam (Md) and Another Vs. State 54 DLR 298ঃ
ভিক্টিম ১৫ বছর বয়স যার বিয়ের চুক্তি করার জন্য আইনগত যোগ্যতা নেই ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত। ( the victim being 15 years of old was not legally competent to get herself married until attaining the age of 18)
 
পর্যালোচনাঃ জান্নাতুল নাইম এভ্রিল এর বক্তব্য অনুযায়ী, বিয়ের প্রথম দুইটি শর্তই পুরন হয়নি। বাবা মা ও সমাজের চাপে পড়ে সে বিয়ে করলেও পড়ে সে চলে আসে, তালাক দেয় এবং বাবা মার থেকে সহযোগিতার অভাবে পরবর্তীতে পালিয়ে যায়। এছাড়া এই বিয়েতে এভ্রিল যদি সম্মতি দিয়েও থাকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কারনে তার সম্মতির কোন আইনগত ভিত্তি নেই। এই বিয়েটি শুরু থেকেই সম্পূর্ণ একটি বাতিল চুক্তি এবং অবৈধ। তাই বিয়েটি যেখানে অবৈধ হয়ে গেছে শুরু থেকেই তাই এভ্রিলের “অবিবাহিত” হিসেবে মিস বাংলাদেশ এ অংশগ্রহন আইনগতভাবে বৈধ।
 
আইনগত অধিকারঃ বিয়ে বাতিলের জন্য সহকারী জজ আদালতে ঘোষণামুলক মামলা করা যায়। বাল্যবিবাহ হওয়ার জন্য এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার চেয়ারম্যান আদালতে মামলা করতে পারেন। বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ১৯২৯ এর ৪, ৫ ও ৬ ধারা অনুযায়ী বাল্য বিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এই বিয়ের সাথে যুক্ত সকলেই শাস্তি প্রাপ্ত হবেন।
 

Be the first to post a comment.

Add a comment